চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) রাজস্ব আদায়ে ৮১ হাজার ৪৪২ কোটি টাকার ঘাটতিতে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী, এ ১১ মাসে ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮৪ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু এনবিআর আদায় করতে পেরেছে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। সে হিসাবে অর্থবছরের প্রথম ১১ মাস শেষে লক্ষ্যের তুলনায় রাজস্ব আহরণে ঘাটতির হার দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ৪২ শতাংশে। এনবিআর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, এনবিআরের মাধ্যমে মোট ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল সরকার। এ লক্ষ্য পূরণে অর্থবছরের শেষ মাস তথা চলতি জুনে আরও ১ লাখ ৪২ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে হবে এনবিআরকে, যা সংশ্লিষ্টদের মতে প্রায় অসম্ভব। সংস্থাটির তথ্য বলছে, চলতি জুনের প্রথম ২০ দিনে ২৯ হাজার ৩১১ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। সে হিসাবে ২০ জুন পর্যন্ত মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা।
তবে এনবিআরের দাবি, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে, তা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৪২ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। সে হিসাবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ হাজার ৮৫৬ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশের বেশি।
কাস্টমস অনুবিভাগের রাজস্ব আদায়ে ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ভ্যাট অনুবিভাগের আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ০৫ শতাংশ। আর আয়কর অনুবিভাগের আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করতে পেরেছিল এনবিআর। সে হিসাবে চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার ১০ দিন আগেই গত অর্থবছরের মোট আদায় ছাড়িয়ে গেছে সংস্থাটি। জুনের শেষ ১০ দিনে আরও ২৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা দেখছে এনবিআর। সে হিসাবে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব হতে পারে। তবে এ লক্ষ্য অর্জিত হলেও অর্থবছর শেষে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি থেকে যাবে।
এনবিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়াতে ইতোমধ্যে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস অনুবিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে পৃথক তিনটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এসব টাস্কফোর্স আপিল, ট্রাইব্যুনাল, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) প্রক্রিয়াধীন বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়াতে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
এ ছাড়া কর ফাঁকি শনাক্ত করে রাজস্ব পুনরুদ্ধার, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নির্বাচিত অডিট মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে কর দাবি সৃষ্টি ও আদায়, উৎসে আয়কর ও উৎসে ভ্যাট আদায় কার্যক্রমের তদারকি, কাস্টমস হাউসের পোস্ট-ক্লিয়ারেন্স অডিট এবং রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ করদাতাদের আয়কর ও ভ্যাট অডিট সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে এনবিআর। সংস্থাটির মতে, এসব পদক্ষেপের ফলে এনবিআরের সার্বিক কার্যক্রমে গতি এসেছে এবং রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে।